বৃদ্ধাশ্রম
বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল সে,
প্রথম হাসি হাসলো সে মায়ের কোলে এসে।
দু হাত দিয়ে বাবা খোকাকে নিল বুকে জড়িয়ে
বড়ো করলো খোকাকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে।
জন্মদিনে প্রিয় ছিল তার মায়ের হাতের পায়েস,
মায়ের কোলে মাথা রেখে করতো খোকা আয়েশ।
স্বপ্ন দেখে ঘুমের ঘোরে উঠত খোকা কেঁদে,
জড়িয়ে ধরে মা খোকাকে আঁচলে নিত বেঁধে।
খোকা আজ বড় হয়েছে, বিরাট চাকরি করে,
বড় হয়ে গিয়ে খোকার আর মন বসেনা ঘড়ে।
আজ আর বাবা-মায়ের জন্য সময় নেই খোকার
কারণ খোকা আজ বিয়ে করে চুটিয়ে করছে সংসার।
যে খোকা আগে মায়ের কোলে শুয়ে করতো আয়েশ,
আজ সেই খোকা জন্মদিনে খাচ্ছে বউয়ের হাতের পায়েস।
খোকা আজ বাবা হয়েছে, খোকারো হয়েছে ছেলে,
বউও নাকি খোকার চাকরি করে রেলে।
বাবা-মাকে নিয়ে, খোকা থাকেনা আর,
তাদের ভার নিতে নাকি সমস্যা হচ্ছে খোকার।
যে বাবা-মা এই খোকার জন্য করলো এত পরিশ্রম,
আজ সেই বাবা-মায়ের ঠিকানা, হলো বৃদ্ধাশ্রম।
বাবা-মা কেমন রইল খোঁজও নেয়না একবার,
খোকা নাকি খুব ব্যস্ত, তাই সময় হয়না যাওয়ার।
খোকার আজ বয়স হয়েছে, বাবা-মা হয়েছেন গত
খোকার ছেলেও আজ বড় হয়েছে দিন গেছে যত।
ছেলেকে বড় করতে খোকাও করেছিল বড্ড পরিশ্রম
ভাগ্যবশত আজ খোকারো ঠিকানা সেই বৃদ্ধাশ্রম।।
~সোহন চৌধুরী


