কাউকে ভালো রাখার দায়িত্বকে যদি ভারী মনে হয়,

তা হলে সে দায়িত্ব না নেওয়াই ভালো বোধ হয়,

আর কারো দায়িত্ব নিয়ে নিলে, তাঁকে বাঁচাতে হয়।

তাই আগে নিজের শিরদাঁড়া সোজা রাখা চাই।

অন্তরের উন্মাদনায় পরের কাজ করে দেবার আগে,

নিজের কাজ সুসম্পন্ন করতে হয় ঠিকঠাক ভাবে।

কারো ভালো করা যায়, নিজে ভালো থাকলে তবে।

মানুষ তো আর পিঁপড়ের মতো সমাজবদ্ধ জীব নয়, যে, নিজের চেয়ে কুড়ি গুণ বেশি,ওজন বইবে !

তাও আবার সামান্য কর্তব্য বোধের খাতিরে !

মনে পড়ছে উকিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কথা,

মক্কেলের ফাঁসী হবে ! বোঝেন তার পরিবারের ব্যাথা।

হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশের মতো সৎ মানুষকেও___

জেনে বুঝে মিথ্যেবাদী বলে রাগিয়ে দেননি অযথা !

বার বার খুনের প্রত্যক্ষদর্শীকে "আপনি মিথ্যে কথা বলছেন, আপনি জাম গাছের তলায় কি করছিলেন ?

এমন প্রশ্ন বারবার করাতে, উনি গায়ে তেল মাখার কথা কতবার আর বলবেন ! শেষে রেগে গিয়ে বলেন, "আমি জাম গাছের তলায় বসে খাচ্ছিলাম জাম ! "

ওমনি ফেঁসে যান, একেই বোধহয় বলে বিধি বাম !

শীতের রোদে তেল মাখার কথা সত্যি হতেই পারে,

কিন্তু শীতকালে, কি করে ধরে জাম গাছে জাম ?

পরে অবশ্য চিত্তরঞ্জন তাঁর কাছে গিয়ে মাপ চান,

পরিবারটা অনাথ হওয়া থেকে বেঁচে গেল, বোঝান।

পরিবার হোক বা দেশ, তা রক্ষার দায়িত্ব সকলের,

আর যে কোনো সম্পর্ক টেঁকানোর দায়িত্ব দুতরফের।

কৃষ্ণ থাকা সত্বেও মহাভারতের যুদ্ধ সংঘটিত হয়,

আজকেও যুদ্ধের ময়দানে দলে দলে প্রাণ চলে যায়,

বুঝতে পারিনা এত সংহারের দায়িত্ব কে নেবে হায় !

ধোঁয়া ও বারুদের গন্ধে কাক, চিল কোথায় পালায় !

কালো টাকা কি আর সাথে করে নেওয়া যায় !