
আ বিস্তৃত
একসময় এ বাড়ির ছাদ থেকে অজয় দেখা যেত। আ বিস্তৃত কাশ, ধানের সারি পাটেরা মুখ দুলিয়ে হাওয়ায়, বছর বছর পাল্টে যেত ঘরের রঙ, মেঘ ঘরের। যে বছর পাট হলো না সরষে বা গাঁদা। এখন একই রঙে সারা বছর, চোখ মেলে থাকা জলও বহুদূরে, চোখে প্রায় পড়েই না, কখনও খুব ঝড় বৃষ্টির রাতে হয়ত, সমস্ত নিভে যাবার পর, বৈঠার আলোয় মৃদু কাঁপ গুঞ্জন। মাঝিরা ফেরার ঠাঁইয়ে তখন
কাঁপা কাঁপা স্বরে এসে দাঁড়াও তুমি। কে তুমি? আলতো আঙুলে অধরে রেখে নিজেকে টেনে নিয়েছি তোমার কাছে। ট্রেন যাবার গন্ধ, ঝাঁঝালো তীব্র আলো তার সমস্ত চিরে যেন, এখানেই! তোমাকে বুকে জড়ালেই এ শব্দ শুনি! তবে কি কোথাও যাওয়ার ছিলো আমার? আছে? কেউ অপে
পা গুণে গুণে সিঁড়িতে নামা। দুয়ের তিন চার পর্যায়ে এক্স কে মাইনাস ধরলে
চোখের বাইরে ওই যত ধূপ ধূনো মাদারির গাছ, কাঁটায় লাল ফুল, বর্ষামঙ্গলের রাতে এ উঠান ভরে থাকত লাল কাঁকড়ায়, তাদের ছোটো ছোটো হাত দু পায়ের ভার, মাঝের দিকটা পেটে কালো চামড়ার বহনের নিচে
মা গন্ধ! ভাতের ফেনায় আঁচ চড়িয়েছে, দুধ কাটা সর রসভুবনের পলক গলে উথলে হাঁড়ির মুখে এখন সারা গায়ের দেহ
রান্নাঘরে এসে দাঁড়াই দরজায়, পিঁড়ির দুপাশে পা রেখে বসেছো তুমি, ঘাড়ে জমা বিন্দু বিন্দু, আ! অ কাল বাসী গন্ধ! নারী দুর্বোধ্য কামনায়! পিঠে কার হাত পাই ছোঁয়া ঠান্ডা! মা!
নারী। ভুবনের সত্য যে দ্বাপর সে যুগে রহরে বন্দী প্রহ্লাদ
ভাবতে ভাবতে বুঝতে পারি পিছিয়ে আসছি, আমার কোনো বোধ তথাকথিক আমি সংস্কারের দায়, ওই মা পেরিয়ে যেন যেন কিছুতেই! বলতে চেয়েও গলায় রাখা আঙুল না! বলেছে ঠোঁটে
মা কেন নারী নয়? কেন তার বেশ স্পর্শ অধর!
উফ! নিজেকে বন্দী করি আমি, না না! এ দৃশ্য এ অধরা
শব্দের নিজস্ব ভাবঘর, সেখানে আগুন জ্বেলেছে কেউ, মুখ নামানো লালের গন্ধব হাওয়া আলোর শিখা আঁচ যে তোমার মুখে ফেলছে, অপরিচিত, নিচু হয়ে বসে তুলো কাটছো। সুতলির আঁশ রোয়া ছুঁয়ে ছুঁয়ে হাতে সাথে হাত তাঁবু পাকানো গরমে আঁচ সেদ্ধ হচ্ছে। কে তুমি?
রবিঠাকুরের কবিতার লাইন মনে পড়ে
“মেলেনি উত্তর”
সরে আসি এখান থেকেও দাঁড়ানো ঘর, মেঝে, কোনার আলোয় সাজানো নেভা আধো নিজেকে ভরিয়ে
এখানে কি কেউ আএএএএছোও
ডাকিনি, এমনই বলতে চেয়েছি, মুখের সামনে হাত পাকিয়ে
আমি হেঁটে যা
